প্রকাশিত: ২৪/১২/২০২০ ৫:৪০ পিএম

নতুন বছরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দেখতে চায় জাপান। ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ইতো নওকি স্পষ্ট করে বলেছেন, ২০২১ সালে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে টোকিও কাজ করছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে কূটনীতিক সংবাদদাতা সমিতি (ডিকাব)-এর সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব বলেন। মিয়ানমারের সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে জাপানের ভালো বোঝাপড়া রয়েছে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধানে তাদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। এ সঙ্কটের স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রত্যাবাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের মতো মিয়ানমারও জাপানের ঐতিহ্যবাহী বন্ধু। উভয় দেশের প্রতিই জাপানের আগ্রহ রয়েছে। প্রায় ১১ লাখ বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক এখন বাংলাদেশে অস্থায়ী আশ্রয়ে রয়েছে, যারা বিভিন্ন সময়ে নিজ দেশ নির্যাতনের কারণে পালিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিতে বাধ্য হয়েছে।

ডিকাব সভাপতি আঙ্গুর নাহার মন্টির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ডিকাব টক-এ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্য ছাড়াও বাংলাদেশের ফরেন পলিসি নিয়মিত কভার করা রিপোর্টাররা উপস্থিত ছিলেন। উন্নয়ন-অগ্রগতি এবং কৌশলগত অবস্থানের কারণে বাংলাদেশকে জাপান খুবই গুরুত্ব দেয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত আশা করেন এ অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ এশিয়া ও এর বাইরের বাজারে সরবরাহ চেইনকে আরও সংহত করতে পারবে। বাংলাদেশে যে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প চলছে তাতে আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে দেশের অবকাঠামোতে আমূল পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে মন্তব্য করে তিনি বাংলাদেশে চলমান অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতার বিস্তারিত তুলে ধরেন। বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার দুর্দান্ত কাজ করেছে মন্তব্য করে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ভালো বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করায় জাপানি কোম্পানিগুলো এদেশে বিনিয়োগের ব্যাপারে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠেছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, কানেক্টিভিটি, শুল্ক সংক্রান্ত কানুন সহজীকরণসহ বিনিয়োগের উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকার নানা ধরণের ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের যে ধারা তাতে আগামী বছর থেকে ইতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান হবে। রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশে জাপানের তিন শতাধিক কোম্পানি কাজ করছে। ঢাকা থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে আড়াই হাজার উপজেলায় জাপানের জন্য বরাদ্দ করা স্পেশাল ইকোনমিক জোনে বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আসবে বলে আশা করেন তিনি। জাপানকে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার আখ্যা দিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, এই স্ট্র্যাটেজি এশিয়ার সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার ভিশন। এতে বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের সবার কল্যাণ রয়েছে। করোনা পরিস্থিতি বাংলাদেশ ভালোভাবে সামলেছে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত। দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ যে সব উদ্যোগ নিয়েছে তিনি তার প্রশংসা করেন।

পাঠকের মতামত

‘বিএনপির অতীতের সাফল্য রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নতুন উদ্যোগের অনুপ্রেরণা’

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে অতীতে ...

অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো বিশেষ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বর্তমান সরকারের ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো কোনো বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ...

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কানাডার সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে ...

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ‘অবশ্যই সম্ভব’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ‘অবশ্যই সম্ভব’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ...

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাহাড়ি এলাকায় দুটি সেনা ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ ঠেকাতে দুটি সেনা ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ...

রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, এর সমাপ্তিও হতে হবে সেখানেই: প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও সেখানেই হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক ...